০৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে সেটাই হবে সফলতার মূল সূচক -প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / ৭৩ Time View

 মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থে শিখতে পারে। শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে সেটাই হবে সফলতার মূল সূচক। আজ ১৭মে রবিবার ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কর্তৃক আয়োজিত প্রাথমিক স্তরে বাংলা ভাষার দক্ষতা উন্নয়ন পাইলটিং কার্যক্রম বেইজলাইন রিপোর্ট শেয়ারিং বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে সবার আগে কারিকুলাম সঠিকভাবে ডিজাইন করতে হবে। তিনি প্রাথমিক শিক্ষায় ‘আর্লি লার্নিং’ বা প্রাথমিক বয়সের শেখার বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভাষা শিক্ষা ও মৌলিক গণিত দক্ষতা অর্জন। শুনে বোঝা, বলে বোঝানো, পড়ে বোঝা এবং লিখে বোঝানো এই চারটি ভাষাগত দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান টেক্সটবুকের আকার ও উপস্থাপনা শিশুদের উপযোগী নয়। একটি ছয় বছরের শিশুর হাতে বড় আকারের বই তুলে দিলে তার মধ্যে শেখার আগ্রহ কমে যায়। ছোট ছোট অধ্যায়ভিত্তিক বই ও আনন্দমুখর শেখার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সিভিক এডুকেশন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এসব বিষয় ভাষা শিক্ষার মাধ্যমেই শেখানো সম্ভব। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন প্রাথমিক কারিকুলাম ডিজাইন ও পাইলটিং সম্পন্ন করে দেশব্যাপী ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। নতুন কারিকুলামের ভিত্তি হবে ভাষা শিক্ষা, গণিত, সিভিক এডুকেশন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। তিনি বলেন, নতুন কারিকুলামের আলোকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, টেক্সটবুক প্রণয়ন এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও পুনর্বিন্যাস করা হবে। ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থাপনা ও পরিবেশ শিশুদের শেখার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। শেষে তিনি বলেন, এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি কাজের একমাত্র মাপকাঠি হবে লার্নিং আউটকাম। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), ময়মনসিংহের মহাপরিচালক ফরিদ আহ্‌মদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী। এছাড়াও ন্যাপের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে সেটাই হবে সফলতার মূল সূচক -প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০৬:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

 মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থে শিখতে পারে। শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে সেটাই হবে সফলতার মূল সূচক। আজ ১৭মে রবিবার ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কর্তৃক আয়োজিত প্রাথমিক স্তরে বাংলা ভাষার দক্ষতা উন্নয়ন পাইলটিং কার্যক্রম বেইজলাইন রিপোর্ট শেয়ারিং বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে সবার আগে কারিকুলাম সঠিকভাবে ডিজাইন করতে হবে। তিনি প্রাথমিক শিক্ষায় ‘আর্লি লার্নিং’ বা প্রাথমিক বয়সের শেখার বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভাষা শিক্ষা ও মৌলিক গণিত দক্ষতা অর্জন। শুনে বোঝা, বলে বোঝানো, পড়ে বোঝা এবং লিখে বোঝানো এই চারটি ভাষাগত দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান টেক্সটবুকের আকার ও উপস্থাপনা শিশুদের উপযোগী নয়। একটি ছয় বছরের শিশুর হাতে বড় আকারের বই তুলে দিলে তার মধ্যে শেখার আগ্রহ কমে যায়। ছোট ছোট অধ্যায়ভিত্তিক বই ও আনন্দমুখর শেখার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সিভিক এডুকেশন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এসব বিষয় ভাষা শিক্ষার মাধ্যমেই শেখানো সম্ভব। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন প্রাথমিক কারিকুলাম ডিজাইন ও পাইলটিং সম্পন্ন করে দেশব্যাপী ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। নতুন কারিকুলামের ভিত্তি হবে ভাষা শিক্ষা, গণিত, সিভিক এডুকেশন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। তিনি বলেন, নতুন কারিকুলামের আলোকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, টেক্সটবুক প্রণয়ন এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও পুনর্বিন্যাস করা হবে। ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থাপনা ও পরিবেশ শিশুদের শেখার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। শেষে তিনি বলেন, এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি কাজের একমাত্র মাপকাঠি হবে লার্নিং আউটকাম। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), ময়মনসিংহের মহাপরিচালক ফরিদ আহ্‌মদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী। এছাড়াও ন্যাপের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।