০৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌসুম এলেই তৎপরতা, বাস্তবে স্থবিরতা: চট্টগ্রামে খাল-নালা পরিষ্কারে ‘বিশেষ অভিযান’ শুরু

মোঃ শহীদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিবেদকঃ
  • Update Time : ০৬:১৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৭ Time View

  বর্ষা ঘনালেই জলাবদ্ধতার আতঙ্কে কাঁপে চট্টগ্রাম। সেই পুরোনো সংকট মোকাবিলার ঘোষণায় আবারও খাল-নালা পরিষ্কারে ‘বিশেষ অভিযান’ শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। নগরীর জামাল খান লিচু বাগান এলাকা থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালু করা হলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এবার কি সত্যিই বদলাবে পরিস্থিতি, নাকি আগের মতোই কাগুজে তৎপরতায় সীমাবদ্ধ থাকবে? উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র জলাবদ্ধতা নিরসনে জোরালো উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবতা ভিন্ন চিত্রই বলে। প্রতি বছরই একই প্রতিশ্রুতি, একই পরিকল্পনা—কিন্তু বর্ষা এলেই নগরজুড়ে হাঁটু পানির দুর্ভোগ, জনভোগান্তি আর ক্ষোভের বিস্ফোরণ। মেয়র দাবি করেন, আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে নগরবাসীর প্রশ্ন—বর্ষার আগে হঠাৎ এই তৎপরতা কেন? বছরজুড়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায়ই কি এই চরম ভোগান্তি নয়? ৪১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে কাজ চালানোর কথা জানানো হলেও অতীত অভিজ্ঞতা বলছে—কাজের মান, তদারকি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি থেকেই যায়। শুধু ময়লা অপসারণ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, প্রয়োজন কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নজরদারি। সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত মনিটরিংয়ের কথা বললেও বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতার কথা বলা হলেও দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা নিয়েও উঠছে সমালোচনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, খণ্ডকালীন অভিযান নয়—সমন্বিত, টেকসই ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ ছাড়া চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা কখনোই দূর হবে না। নগরবাসীর সরাসরি দাবি:“ঘোষণা নয়, কার্যকর কাজ চাই—বর্ষা এলেই যেন আর ডুবতে না হয় চট্টগ্রামকে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মৌসুম এলেই তৎপরতা, বাস্তবে স্থবিরতা: চট্টগ্রামে খাল-নালা পরিষ্কারে ‘বিশেষ অভিযান’ শুরু

Update Time : ০৬:১৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

  বর্ষা ঘনালেই জলাবদ্ধতার আতঙ্কে কাঁপে চট্টগ্রাম। সেই পুরোনো সংকট মোকাবিলার ঘোষণায় আবারও খাল-নালা পরিষ্কারে ‘বিশেষ অভিযান’ শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। নগরীর জামাল খান লিচু বাগান এলাকা থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালু করা হলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এবার কি সত্যিই বদলাবে পরিস্থিতি, নাকি আগের মতোই কাগুজে তৎপরতায় সীমাবদ্ধ থাকবে? উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র জলাবদ্ধতা নিরসনে জোরালো উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবতা ভিন্ন চিত্রই বলে। প্রতি বছরই একই প্রতিশ্রুতি, একই পরিকল্পনা—কিন্তু বর্ষা এলেই নগরজুড়ে হাঁটু পানির দুর্ভোগ, জনভোগান্তি আর ক্ষোভের বিস্ফোরণ। মেয়র দাবি করেন, আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে নগরবাসীর প্রশ্ন—বর্ষার আগে হঠাৎ এই তৎপরতা কেন? বছরজুড়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায়ই কি এই চরম ভোগান্তি নয়? ৪১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে কাজ চালানোর কথা জানানো হলেও অতীত অভিজ্ঞতা বলছে—কাজের মান, তদারকি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি থেকেই যায়। শুধু ময়লা অপসারণ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, প্রয়োজন কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নজরদারি। সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত মনিটরিংয়ের কথা বললেও বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতার কথা বলা হলেও দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা নিয়েও উঠছে সমালোচনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, খণ্ডকালীন অভিযান নয়—সমন্বিত, টেকসই ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ ছাড়া চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা কখনোই দূর হবে না। নগরবাসীর সরাসরি দাবি:“ঘোষণা নয়, কার্যকর কাজ চাই—বর্ষা এলেই যেন আর ডুবতে না হয় চট্টগ্রামকে।