১২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. এম. এন. সাফাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ

 বিশেষ প্রতিবেদক,
  • Update Time : ০৮:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১১ Time View

চট্টগ্রাম চিকিৎসাসেবা, সমাজকল্যাণ, মানবিক কর্মকাণ্ড ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বিশিষ্ট চিকিৎসক, সমাজসেবক ও মানবহিতৈষী আলহাজ ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. এম. এন. সাফার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৪ সেপ্টেম্বর। ২০১২ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছেন। ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. এম. এন. সাফা ১৯৫০ সালে পাকিস্তান আর্মি মেডিকেল কোরে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। সামরিক জীবনে দায়িত্ব পালনের পর তিনি চিকিৎসা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সমাজকল্যাণ ও জনসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সমাজসেবায় তাঁর উল্লেখযোগ্য সম্পৃক্ততার মধ্যে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তৎকালীন পাকিস্তান রেড ক্রস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও আজীবন সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রামের চিকিৎসক সমাজেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক অঙ্গনেও ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. এম. এন. সাফা ছিলেন একজন সক্রিয় সংগঠক। বৃহত্তর চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে জাগোদল গঠনের সময় তিনি প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাজনৈতিক সংগঠনকে সুসংগঠিত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতেও তিনি ভূমিকা রাখেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি (বিএনএসবি)-এর ট্রাস্টি ও আজীবন সদস্য ছিলেন। বিএনএসবি আই ইনফার্মারি ও ট্রেনিং কমপ্লেক্সের সঙ্গেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। চট্টগ্রাম বিএনএসবি নির্বাহী পরিষদের প্রথম সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এ ছাড়া জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি, চট্টগ্রাম কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন, প্রাক্তন সেনা সদস্য সমিতি ও ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক, চিকিৎসা, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। ব্যক্তিজীবনে ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. এম. এন. সাফা ছিলেন উদার, মানবিক ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত। অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রতি তাঁর ছিল বিশেষ আন্তরিকতা। চিকিৎসা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন তাঁকে চট্টগ্রামের সামাজিক ও পেশাজীবী অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে দেয়। তাঁর মৃত্যুর ১৪ বছর পরও চিকিৎসা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণে তাঁর অবদান স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। মানুষের সেবায় তাঁর কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া গ্রামে তাঁর পৈতৃক বাড়ি এবং ঢাকার গুলশানে তাঁর কন্যার বাসভবনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. এম. এন. সাফাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ

Update Time : ০৮:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম চিকিৎসাসেবা, সমাজকল্যাণ, মানবিক কর্মকাণ্ড ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বিশিষ্ট চিকিৎসক, সমাজসেবক ও মানবহিতৈষী আলহাজ ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. এম. এন. সাফার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৪ সেপ্টেম্বর। ২০১২ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছেন। ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. এম. এন. সাফা ১৯৫০ সালে পাকিস্তান আর্মি মেডিকেল কোরে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। সামরিক জীবনে দায়িত্ব পালনের পর তিনি চিকিৎসা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সমাজকল্যাণ ও জনসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সমাজসেবায় তাঁর উল্লেখযোগ্য সম্পৃক্ততার মধ্যে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তৎকালীন পাকিস্তান রেড ক্রস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও আজীবন সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রামের চিকিৎসক সমাজেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক অঙ্গনেও ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. এম. এন. সাফা ছিলেন একজন সক্রিয় সংগঠক। বৃহত্তর চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে জাগোদল গঠনের সময় তিনি প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাজনৈতিক সংগঠনকে সুসংগঠিত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতেও তিনি ভূমিকা রাখেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি (বিএনএসবি)-এর ট্রাস্টি ও আজীবন সদস্য ছিলেন। বিএনএসবি আই ইনফার্মারি ও ট্রেনিং কমপ্লেক্সের সঙ্গেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। চট্টগ্রাম বিএনএসবি নির্বাহী পরিষদের প্রথম সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এ ছাড়া জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি, চট্টগ্রাম কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন, প্রাক্তন সেনা সদস্য সমিতি ও ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক, চিকিৎসা, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। ব্যক্তিজীবনে ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. এম. এন. সাফা ছিলেন উদার, মানবিক ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত। অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রতি তাঁর ছিল বিশেষ আন্তরিকতা। চিকিৎসা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন তাঁকে চট্টগ্রামের সামাজিক ও পেশাজীবী অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে দেয়। তাঁর মৃত্যুর ১৪ বছর পরও চিকিৎসা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণে তাঁর অবদান স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। মানুষের সেবায় তাঁর কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া গ্রামে তাঁর পৈতৃক বাড়ি এবং ঢাকার গুলশানে তাঁর কন্যার বাসভবনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া চাওয়া হয়েছে।