০৭:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে প্রতিবন্ধী ছেলের যত্নে বৃদ্ধা মাতার ক্লান্তিহীন লড়াই

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • / ৫৭৫ Time View

 

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:

ছেলে বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। মায়েরও বয়স হয়েছে। তবুও ছেলের সেবাযত্নে কোনো কমতি নেই বৃদ্ধা মায়ের। প্রতিবন্ধী ছেলে সিরাজুল ইসলামকে (৫৮) ভালো রাখতে ক্লান্তিহীন লড়াই করে চলেছেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গোসাইপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাটিয়াকুড়া গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী জায়েদা খাতুন।  জায়েদার স্বামী তফিল উদ্দিন মারা গেছেন বছর ৪০ আগে। অভাব অনটনে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে ৩ ছেলে ১ মেয়েকে নিয়ে তিনি চলে যান ঢাকায়।

সেখানে কাজ নেন গার্মেন্টসে। বেতনের টাকায় সন্তানদের বড় করেন। মেয়ে ও ছোট ২ ছেলেকে বিয়ে করান জায়েদা। বড় ছেলে সিরাজুল বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, করতে পারেনি সংসার।  বয়সের জন্য কাজ করতে না পারায় জায়েদাকে ফিরতে হয় দক্ষিণ মাটিয়াকুড়া গ্রামে। জীবনের সঞ্চয়ের টাকায় ১ টুকরো জমি কিনে তোলেন ঘর। সেই ঘরেই তাদের বসবাস। এলাকাবাসী জানান, জায়েদার ২ ছেলে ঢাকায় লেবারের কাজ করে। যা আয় হয় তাতেই নিজেদের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। মেয়ে থাকে শ্বশুর বাড়ি। জায়েদার ছেলে সিরাজুল বয়সে বুড়িয়ে গেলেও বুদ্ধিতে শিশুর মতো। ছেলের সেবাযত্ন ও ভরণপোষণে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন। ভিক্ষা করে নিজের ও সন্তানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বয়সের ভারে নুয়ে পড়ায় ভিক্ষা করতে পারেন না।

প্রতিবেশীদের দান- দয়ায় চলে মা-ছেলের জীবন। জায়েদা বলেন, “আমার জীবনে সুখ বলতে কিছু নাই। পেটের পুলা (ছেলে) কই ফেলায়ে দিমু। পুলাডাও বুড়া হয়ে যাইতাছে। আমি কতদিন দেখমু। নিজেই চলতে পারি না। মরে যাই সমস্যা নাই! পুলাডার যেন এডা গতি হয়। তাইলে আমি মরেও শান্তি পামু।”শ্রীবরদী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, “মাকে বিধবা ও ছেলেকে প্রতিবন্ধী কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু এটা তাদের জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট নয়। সহযোগিতার সুযোগ আসলে দেয়া হবে।” শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ বলেন, আপনাদের মাধ্যমেই জানতে পারলাম। নিজে গিয়ে দেখবো। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

শেরপুরে প্রতিবন্ধী ছেলের যত্নে বৃদ্ধা মাতার ক্লান্তিহীন লড়াই

Update Time : ০৬:০১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

 

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:

ছেলে বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। মায়েরও বয়স হয়েছে। তবুও ছেলের সেবাযত্নে কোনো কমতি নেই বৃদ্ধা মায়ের। প্রতিবন্ধী ছেলে সিরাজুল ইসলামকে (৫৮) ভালো রাখতে ক্লান্তিহীন লড়াই করে চলেছেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গোসাইপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাটিয়াকুড়া গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী জায়েদা খাতুন।  জায়েদার স্বামী তফিল উদ্দিন মারা গেছেন বছর ৪০ আগে। অভাব অনটনে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে ৩ ছেলে ১ মেয়েকে নিয়ে তিনি চলে যান ঢাকায়।

সেখানে কাজ নেন গার্মেন্টসে। বেতনের টাকায় সন্তানদের বড় করেন। মেয়ে ও ছোট ২ ছেলেকে বিয়ে করান জায়েদা। বড় ছেলে সিরাজুল বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, করতে পারেনি সংসার।  বয়সের জন্য কাজ করতে না পারায় জায়েদাকে ফিরতে হয় দক্ষিণ মাটিয়াকুড়া গ্রামে। জীবনের সঞ্চয়ের টাকায় ১ টুকরো জমি কিনে তোলেন ঘর। সেই ঘরেই তাদের বসবাস। এলাকাবাসী জানান, জায়েদার ২ ছেলে ঢাকায় লেবারের কাজ করে। যা আয় হয় তাতেই নিজেদের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। মেয়ে থাকে শ্বশুর বাড়ি। জায়েদার ছেলে সিরাজুল বয়সে বুড়িয়ে গেলেও বুদ্ধিতে শিশুর মতো। ছেলের সেবাযত্ন ও ভরণপোষণে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন। ভিক্ষা করে নিজের ও সন্তানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বয়সের ভারে নুয়ে পড়ায় ভিক্ষা করতে পারেন না।

প্রতিবেশীদের দান- দয়ায় চলে মা-ছেলের জীবন। জায়েদা বলেন, “আমার জীবনে সুখ বলতে কিছু নাই। পেটের পুলা (ছেলে) কই ফেলায়ে দিমু। পুলাডাও বুড়া হয়ে যাইতাছে। আমি কতদিন দেখমু। নিজেই চলতে পারি না। মরে যাই সমস্যা নাই! পুলাডার যেন এডা গতি হয়। তাইলে আমি মরেও শান্তি পামু।”শ্রীবরদী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, “মাকে বিধবা ও ছেলেকে প্রতিবন্ধী কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু এটা তাদের জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট নয়। সহযোগিতার সুযোগ আসলে দেয়া হবে।” শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ বলেন, আপনাদের মাধ্যমেই জানতে পারলাম। নিজে গিয়ে দেখবো। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।