০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে পরিকল্পিত খুন! মনিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যা রহস্য উন্মোচন

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১১৮ Time View

 মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি চাঁদাবাজি বিরোধের জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, মূল হোতা শিপন মুন্না পলাতক। যশোরের মনিরামপুরে আলোচিত বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যা মামলায় শুটার মাহামুদ হাসান হৃদয়সহ চারজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক অপরজন শামীম, যিনি ঘটনার দিন নিহতের অবস্থান শনাক্ত করে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এসব তথ্য জানান। পুলিশ জানায়, আটক মাহামুদ হাসান হৃদয় অভয়নগর উপজেলার বারান্দী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকাশ্যে গুলি, পরে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে আলম সরদারের দোতলা ভবন ও হাবিবের মার্কেটের মাঝামাঝি কাঁচা সড়কে, ঝুম বিউটি পার্লারের সামনে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার গলা কাটা হয়। নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঘটনার পর নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করলে যশোর ডিবির এসআই কামরুজ্জামান তদন্তভার গ্রহণ করেন। সিসিটিভি ও প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে প্রথমে সাদ্দাম নামে এক আসামিকে বাগেরহাট জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি নড়াইল থেকে রাজীব মোল্লাকে আটক করা হয়। রাজীবের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু ও যাতায়াতে ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। চাঁদাবাজির দ্বন্দ্ব থেকে হত্যার পরিকল্পনা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রানা প্রতাপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হলেও পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শিপন আহমেদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘের মালিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করতেন। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। এর জের ধরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন হৃদয় কপালিয়া বাজারে শামীম ও সেলিমকে পাঠিয়ে রানা প্রতাপের অবস্থান নিশ্চিত করেন। পরে হৃদয়, রাজীব মোল্লা ও সূর্য একটি পালসার মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে রানার সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয় এবং পরে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত শিপন আহমেদ মুন্না ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সূর্যকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে পরিকল্পিত খুন! মনিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যা রহস্য উন্মোচন

Update Time : ১১:৪৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি চাঁদাবাজি বিরোধের জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, মূল হোতা শিপন মুন্না পলাতক। যশোরের মনিরামপুরে আলোচিত বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যা মামলায় শুটার মাহামুদ হাসান হৃদয়সহ চারজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক অপরজন শামীম, যিনি ঘটনার দিন নিহতের অবস্থান শনাক্ত করে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এসব তথ্য জানান। পুলিশ জানায়, আটক মাহামুদ হাসান হৃদয় অভয়নগর উপজেলার বারান্দী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকাশ্যে গুলি, পরে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে আলম সরদারের দোতলা ভবন ও হাবিবের মার্কেটের মাঝামাঝি কাঁচা সড়কে, ঝুম বিউটি পার্লারের সামনে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার গলা কাটা হয়। নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঘটনার পর নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করলে যশোর ডিবির এসআই কামরুজ্জামান তদন্তভার গ্রহণ করেন। সিসিটিভি ও প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে প্রথমে সাদ্দাম নামে এক আসামিকে বাগেরহাট জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি নড়াইল থেকে রাজীব মোল্লাকে আটক করা হয়। রাজীবের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু ও যাতায়াতে ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। চাঁদাবাজির দ্বন্দ্ব থেকে হত্যার পরিকল্পনা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রানা প্রতাপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হলেও পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শিপন আহমেদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘের মালিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করতেন। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। এর জের ধরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন হৃদয় কপালিয়া বাজারে শামীম ও সেলিমকে পাঠিয়ে রানা প্রতাপের অবস্থান নিশ্চিত করেন। পরে হৃদয়, রাজীব মোল্লা ও সূর্য একটি পালসার মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে রানার সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয় এবং পরে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত শিপন আহমেদ মুন্না ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সূর্যকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।