০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩২ লাখ টাকার মোবাইল পণ্য আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার একজন

 বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রামঃ
  • Update Time : ০৮:১৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / ২২ Time View

 চট্টগ্রাম বন্দরের আরএস জেটি এলাকা থেকে আত্মসাৎ হওয়া প্রায় ৩২ লাখ টাকা মূল্যের আমদানিকৃত মোবাইল এক্সোসরিজ পণ্যের ঘটনায় জড়িত চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। একই সঙ্গে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ৬ কার্টুন আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের এলসিডি (LCD) ডিসপ্লে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বন্দর থানাধীন চট্টগ্রাম বন্দরের আরএস জেটির আওতাধীন এসসিওয়াই (SCY) ইয়ার্ড থেকে আমদানিকৃত মোবাইল এক্সোসরিজ পণ্য বুঝে নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন মো. জাবেদ (৪২), মো. তানভীর (৩৮), মো. মানিক (৪০), মো. বিল্লাল হোসেন (৩১) ও মো. সোহাগ (৩৭)। তারা অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জন সহযোগীর সঙ্গে যোগসাজশে চালানে বর্ণিত ৫৯ কার্টুন মোবাইল এক্সোসরিজ পণ্য আমদানিকারকের কারখানায় না পৌঁছে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আত্মসাৎ হওয়া পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৩২ লাখ টাকা। প্রেস রিলিজে বলা হয়, গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল ৪টা থেকে ১ মে ২০২৬ সকাল ১১টার মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর)-এর তত্ত্বাবধানে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুর রহিমের নেতৃত্বে এসআই মনিরুল আলম খোরশেদ, এএসআই গোলাম মওলা এবং কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামসহ একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৫ জুন ২০২৬ ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের কুরিমাঘোনা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাতের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃত দেলোয়ার হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন রিয়াজউদ্দিন বাজারের তামাককুন্ডি লেইন বণিক সমিতির কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ৬ কার্টুন আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের এলসিডি (LCD) ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়। রাত ১০টা ১০ মিনিটে উদ্ধারকৃত পণ্য জব্দ করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত দেলোয়ার হোসেন লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের কুরিমাঘোনা এলাকার কাজীর পাড়ার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারস্থ জলসা মার্কেটে অবস্থিত ‘মোবাইল জোন প্লাস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলে পুলিশ জানিয়েছে। বন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাৎ হওয়া ৫৯ কার্টুন পণ্যের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬ কার্টুন এলসিডি ডিসপ্লে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

৩২ লাখ টাকার মোবাইল পণ্য আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার একজন

Update Time : ০৮:১৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

 চট্টগ্রাম বন্দরের আরএস জেটি এলাকা থেকে আত্মসাৎ হওয়া প্রায় ৩২ লাখ টাকা মূল্যের আমদানিকৃত মোবাইল এক্সোসরিজ পণ্যের ঘটনায় জড়িত চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। একই সঙ্গে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ৬ কার্টুন আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের এলসিডি (LCD) ডিসপ্লে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বন্দর থানাধীন চট্টগ্রাম বন্দরের আরএস জেটির আওতাধীন এসসিওয়াই (SCY) ইয়ার্ড থেকে আমদানিকৃত মোবাইল এক্সোসরিজ পণ্য বুঝে নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন মো. জাবেদ (৪২), মো. তানভীর (৩৮), মো. মানিক (৪০), মো. বিল্লাল হোসেন (৩১) ও মো. সোহাগ (৩৭)। তারা অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জন সহযোগীর সঙ্গে যোগসাজশে চালানে বর্ণিত ৫৯ কার্টুন মোবাইল এক্সোসরিজ পণ্য আমদানিকারকের কারখানায় না পৌঁছে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আত্মসাৎ হওয়া পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৩২ লাখ টাকা। প্রেস রিলিজে বলা হয়, গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল ৪টা থেকে ১ মে ২০২৬ সকাল ১১টার মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর)-এর তত্ত্বাবধানে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুর রহিমের নেতৃত্বে এসআই মনিরুল আলম খোরশেদ, এএসআই গোলাম মওলা এবং কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামসহ একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৫ জুন ২০২৬ ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের কুরিমাঘোনা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাতের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃত দেলোয়ার হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন রিয়াজউদ্দিন বাজারের তামাককুন্ডি লেইন বণিক সমিতির কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ৬ কার্টুন আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের এলসিডি (LCD) ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়। রাত ১০টা ১০ মিনিটে উদ্ধারকৃত পণ্য জব্দ করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত দেলোয়ার হোসেন লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের কুরিমাঘোনা এলাকার কাজীর পাড়ার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারস্থ জলসা মার্কেটে অবস্থিত ‘মোবাইল জোন প্লাস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলে পুলিশ জানিয়েছে। বন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাৎ হওয়া ৫৯ কার্টুন পণ্যের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬ কার্টুন এলসিডি ডিসপ্লে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।