০৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্যারাগনের সেমিনারে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৮ Time View

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি:

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্যারাগন কোম্পানির অর্থায়নে খামারিদের নিয়ে আয়োজিত সেমিনারকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ধানশাইল ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য ও প্যারাগন কোম্পানির ডিলার মো. জাহাঙ্গীর আলমের উদ্যোগে ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এবং ৬ নং ওয়ার্ডের উত্তর দারিয়াপাড়া বিলবাড়ী এলাকায় পৃথকভাবে খামারিদের নিয়ে এসব সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনার শেষে অংশগ্রহণকারী খামারিদের মাঝে ছাতাও বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল খামারিদের প্যারাগন কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য, পশু-পাখির খাদ্য, খামার ব্যবস্থাপনা, পরিচর্যা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া। তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, কোম্পানির পণ্য ও খামার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি সেমিনারকে ব্যক্তিগত ও নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, মো. জাহাঙ্গীর আলম আসন্ন ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ অবস্থায় খামারিদের নিয়ে আয়োজিত কোম্পানির সেমিনারে নিজের বিভিন্ন পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনী প্রচারণার বিষয় সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কোনো বেসরকারি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্যক্তিগত নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ কীভাবে পান? তাদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কর্মসূচিকে যদি কোনো ব্যক্তি নিজের নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহার করেন, তাহলে অনুষ্ঠানটির উদ্দেশ্য ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও নিরপেক্ষতা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাদের মতে, কোম্পানির পণ্য, পশু-পাখির খাদ্য ও খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়াই যদি সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বা নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
সচেতন নাগরিকরা বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে সুস্পষ্ট সীমারেখা থাকা জরুরি। কোনো কোম্পানির অর্থায়নে আয়োজিত কর্মসূচিকে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা অর্জন বা নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তারা আরও প্রশ্ন তোলেন, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত একটি সেমিনার যদি কোনো নির্দিষ্ট চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারণার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে নির্বাচনে অন্য প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ ও পরিবেশ কতটা বজায় থাকবে?
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন সাধারণ নাগরিকের প্রশ্ন, নির্বাচনের আগেই যদি কোনো প্রার্থী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সুযোগ নিয়ে নিজের প্রচারণা চালান, তাহলে ভবিষ্যতে তিনি জনগণের স্বার্থ ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবেন? তাদের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের শুরুতেই যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বা আস্থার সংকট তৈরির আশঙ্কা থেকেই যায়।তবে অভিযোগগুলো সঠিক কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে প্যারাগন কোম্পানির ডিলার ও ধানশাইল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
প্যারাগন কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতেও একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে সেমিনারের প্রকৃত উদ্দেশ্য, অর্থায়ন এবং সেখানে নির্বাচনী প্রচারণার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না—তা পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

প্যারাগনের সেমিনারে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগ

Update Time : ০৩:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি:

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্যারাগন কোম্পানির অর্থায়নে খামারিদের নিয়ে আয়োজিত সেমিনারকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ধানশাইল ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য ও প্যারাগন কোম্পানির ডিলার মো. জাহাঙ্গীর আলমের উদ্যোগে ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এবং ৬ নং ওয়ার্ডের উত্তর দারিয়াপাড়া বিলবাড়ী এলাকায় পৃথকভাবে খামারিদের নিয়ে এসব সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনার শেষে অংশগ্রহণকারী খামারিদের মাঝে ছাতাও বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল খামারিদের প্যারাগন কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য, পশু-পাখির খাদ্য, খামার ব্যবস্থাপনা, পরিচর্যা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া। তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, কোম্পানির পণ্য ও খামার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি সেমিনারকে ব্যক্তিগত ও নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, মো. জাহাঙ্গীর আলম আসন্ন ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ অবস্থায় খামারিদের নিয়ে আয়োজিত কোম্পানির সেমিনারে নিজের বিভিন্ন পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনী প্রচারণার বিষয় সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কোনো বেসরকারি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্যক্তিগত নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ কীভাবে পান? তাদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কর্মসূচিকে যদি কোনো ব্যক্তি নিজের নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহার করেন, তাহলে অনুষ্ঠানটির উদ্দেশ্য ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও নিরপেক্ষতা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাদের মতে, কোম্পানির পণ্য, পশু-পাখির খাদ্য ও খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়াই যদি সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বা নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
সচেতন নাগরিকরা বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে সুস্পষ্ট সীমারেখা থাকা জরুরি। কোনো কোম্পানির অর্থায়নে আয়োজিত কর্মসূচিকে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা অর্জন বা নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তারা আরও প্রশ্ন তোলেন, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত একটি সেমিনার যদি কোনো নির্দিষ্ট চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারণার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে নির্বাচনে অন্য প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ ও পরিবেশ কতটা বজায় থাকবে?
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন সাধারণ নাগরিকের প্রশ্ন, নির্বাচনের আগেই যদি কোনো প্রার্থী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সুযোগ নিয়ে নিজের প্রচারণা চালান, তাহলে ভবিষ্যতে তিনি জনগণের স্বার্থ ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবেন? তাদের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের শুরুতেই যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বা আস্থার সংকট তৈরির আশঙ্কা থেকেই যায়।তবে অভিযোগগুলো সঠিক কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে প্যারাগন কোম্পানির ডিলার ও ধানশাইল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
প্যারাগন কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতেও একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে সেমিনারের প্রকৃত উদ্দেশ্য, অর্থায়ন এবং সেখানে নির্বাচনী প্রচারণার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না—তা পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন।