০২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
https://www.profitableratecpmnetwork.com/v1jxam82i?key=6e48215f3367986c0b5d80f8d170897b

উচ্ছেদের পরও থামেনি জুয়ার কারবার, আমবাগানে ওসমানের নতুন আস্তানা—গ্রেপ্তার ৬

 মোঃ শহীদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিবেদক,
  • Update Time : ০৯:৩৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৭৬ Time View

চট্টগ্রাম উচ্ছেদ করা হয়েছিল জুয়ার আস্তানা। কিন্তু বন্ধ হয়নি জুয়ার কারবার। আগের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার তিন-চার মাসের মধ্যেই লোকচক্ষুর আড়ালে আমবাগানের ভেতর তেরপাল ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয় নতুন অস্থায়ী জুয়ার ঘর। সেখানে অভিযান চালিয়ে ছয় জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানা পুলিশ। এ সময় জুয়ার বোর্ড থেকে বিভিন্ন রঙের ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী খালপাড় সিডিএ বালুর মাঠসংলগ্ন আমবাগানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোঃ সাদ্দাম (৩৫), বাসু দে (৩৫), আব্দুল মজিদ (৪০), মোঃ আরিফ (২৮), মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৬) ও মোঃ সাঈদ হোসেন শাকিল (২৬)। ইপিজেড থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আমবাগানের ভেতরে বিশেষ কায়দায় নির্মিত অস্থায়ী টংঘরে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসরে থাকা আরও ৮ থেকে ১০ জন পালিয়ে যায়। পুলিশের প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, পলাতকদের মধ্যে ওসমান গনি নামে এক ব্যক্তিও রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তেরপাল ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ওই অস্থায়ী জুয়ার ঘরটি ওসমান গনি নির্মাণ করেছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে আকমল আলী পকেট গেট খালপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত একটি জুয়ার ঘর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তবে উচ্ছেদের তিন-চার মাসের মধ্যেই একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গভীর আমবাগানের ভেতরে নতুন করে জুয়ার আস্তানা গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে। অভিযানে জুয়ার বোর্ড থেকে বিভিন্ন রঙের ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিপিএম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমবাগানের ভেতরে অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় জুয়ার সরঞ্জাম ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, পুলিশের অভিযানের সময় আরও কয়েকজন পালিয়ে গেলেও তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ওসি জানান, জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যক্তি নতুন করে জুয়ার আসর বসিয়ে পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জন, পলাতক ওসমান গনি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে ইপিজেড থানায় মামলা করা হয়েছে। প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৫, ১৮ ও ২৭ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিধি অনুযায়ী মহানগর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইপিজেড থানা পুলিশ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

https://www.profitableratecpmnetwork.com/v1jxam82i?key=6e48215f3367986c0b5d80f8d170897b

উচ্ছেদের পরও থামেনি জুয়ার কারবার, আমবাগানে ওসমানের নতুন আস্তানা—গ্রেপ্তার ৬

Update Time : ০৯:৩৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম উচ্ছেদ করা হয়েছিল জুয়ার আস্তানা। কিন্তু বন্ধ হয়নি জুয়ার কারবার। আগের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার তিন-চার মাসের মধ্যেই লোকচক্ষুর আড়ালে আমবাগানের ভেতর তেরপাল ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয় নতুন অস্থায়ী জুয়ার ঘর। সেখানে অভিযান চালিয়ে ছয় জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানা পুলিশ। এ সময় জুয়ার বোর্ড থেকে বিভিন্ন রঙের ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী খালপাড় সিডিএ বালুর মাঠসংলগ্ন আমবাগানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোঃ সাদ্দাম (৩৫), বাসু দে (৩৫), আব্দুল মজিদ (৪০), মোঃ আরিফ (২৮), মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৬) ও মোঃ সাঈদ হোসেন শাকিল (২৬)। ইপিজেড থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আমবাগানের ভেতরে বিশেষ কায়দায় নির্মিত অস্থায়ী টংঘরে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসরে থাকা আরও ৮ থেকে ১০ জন পালিয়ে যায়। পুলিশের প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, পলাতকদের মধ্যে ওসমান গনি নামে এক ব্যক্তিও রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তেরপাল ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ওই অস্থায়ী জুয়ার ঘরটি ওসমান গনি নির্মাণ করেছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে আকমল আলী পকেট গেট খালপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত একটি জুয়ার ঘর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তবে উচ্ছেদের তিন-চার মাসের মধ্যেই একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গভীর আমবাগানের ভেতরে নতুন করে জুয়ার আস্তানা গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে। অভিযানে জুয়ার বোর্ড থেকে বিভিন্ন রঙের ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিপিএম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমবাগানের ভেতরে অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় জুয়ার সরঞ্জাম ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, পুলিশের অভিযানের সময় আরও কয়েকজন পালিয়ে গেলেও তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ওসি জানান, জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যক্তি নতুন করে জুয়ার আসর বসিয়ে পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জন, পলাতক ওসমান গনি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে ইপিজেড থানায় মামলা করা হয়েছে। প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৫, ১৮ ও ২৭ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিধি অনুযায়ী মহানগর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইপিজেড থানা পুলিশ।