০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোর সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে বিজিপির কড়া নজরদারি

কামাল হোসেন বেনাপোল
  • Update Time : ০৫:৪১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / ৮৭ Time View

বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেলের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রম।

১। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজারে বিরাজমান অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি তেলের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে যশোর রিজিয়ন দৃঢ় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার সুযোগে যাতে সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে অবৈধভাবে জ্বালানী তেল পাচার করতে না পারে সে লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যগণ সীমান্ত এলাকায় টহল, তল্লাশী এবং গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিরাজমান পরিস্থিতিতে বিজিবি কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্যসমূহ হলোঃ

ক। জ্বালানি ডিপো সমূহের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
খ। ডিপো হতে ফিলিং স্টেশনসমূহে জ্বালানির নিরবিচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা।
গ। সীমান্ত ও নৌপথে পার্শ্ববর্তী দেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ পাচার প্রতিরোধ করা।
ঘ। সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা।

২। এছাড়াও যশোর রিজিয়নের আওতাধীন সাতটি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এবং সীমান্তের আশেপাশের এলাকায় ১৯২টি বিশেষ তল্লাশী অভিযান পরিচালনা, ২৯টি সীমান্তবর্তী তৈল পাম্প/ফিলিং ষ্টেশন পর্যবেক্ষণ করণ, সন্দেহজনক রুট সমূহে ১৯৩৬টি তল্লাশি ও মোবাইল টহল পরিচালনা, সীমান্তবর্তী চোরাচালানী রুট সমূহে ১১৩১টি চেকপোষ্ট পরিচালনা, তৈল পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সাথে ৯৪৬টি মতবিনিময় সভার আয়োজন এবং বিভিন্ন সংস্থা/বাহিনীর সাথে ৯৭টি যৌথ তল্লাশী এবং চেক পোষ্ট পরিচালনার মাধ্যমে জ্বালানি তৈল পাচার প্রতিরোধকল্পে কর্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

৩। জ্বালানি তেল যাতে অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার হতে না পারে সেজন্য নৌপথে স্পিডবোটের মাধ্যমে ০৬টি নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে, ফলে নদী পথেও সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

৪। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করা সম্ভব। এমতাবস্থায়, দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো যাচ্ছে যে, কোনো প্রকার গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক বিজিবিকে অবহিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

৫। এছাড়াও বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক সারাদেশে ০৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

যশোর সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে বিজিপির কড়া নজরদারি

Update Time : ০৫:৪১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেলের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রম।

১। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজারে বিরাজমান অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি তেলের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে যশোর রিজিয়ন দৃঢ় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার সুযোগে যাতে সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে অবৈধভাবে জ্বালানী তেল পাচার করতে না পারে সে লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যগণ সীমান্ত এলাকায় টহল, তল্লাশী এবং গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিরাজমান পরিস্থিতিতে বিজিবি কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্যসমূহ হলোঃ

ক। জ্বালানি ডিপো সমূহের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
খ। ডিপো হতে ফিলিং স্টেশনসমূহে জ্বালানির নিরবিচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা।
গ। সীমান্ত ও নৌপথে পার্শ্ববর্তী দেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ পাচার প্রতিরোধ করা।
ঘ। সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা।

২। এছাড়াও যশোর রিজিয়নের আওতাধীন সাতটি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এবং সীমান্তের আশেপাশের এলাকায় ১৯২টি বিশেষ তল্লাশী অভিযান পরিচালনা, ২৯টি সীমান্তবর্তী তৈল পাম্প/ফিলিং ষ্টেশন পর্যবেক্ষণ করণ, সন্দেহজনক রুট সমূহে ১৯৩৬টি তল্লাশি ও মোবাইল টহল পরিচালনা, সীমান্তবর্তী চোরাচালানী রুট সমূহে ১১৩১টি চেকপোষ্ট পরিচালনা, তৈল পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সাথে ৯৪৬টি মতবিনিময় সভার আয়োজন এবং বিভিন্ন সংস্থা/বাহিনীর সাথে ৯৭টি যৌথ তল্লাশী এবং চেক পোষ্ট পরিচালনার মাধ্যমে জ্বালানি তৈল পাচার প্রতিরোধকল্পে কর্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

৩। জ্বালানি তেল যাতে অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার হতে না পারে সেজন্য নৌপথে স্পিডবোটের মাধ্যমে ০৬টি নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে, ফলে নদী পথেও সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

৪। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করা সম্ভব। এমতাবস্থায়, দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো যাচ্ছে যে, কোনো প্রকার গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক বিজিবিকে অবহিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

৫। এছাড়াও বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক সারাদেশে ০৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।