মৃত্যু ও মায়া
- Update Time : ০৫:০৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
- / ৪৯৯ Time View

লেখক: মাহমুদা রানি এই খানেই মোর নানি শায়িত গোরস্থানের বুকে, চব্বিশটি বছর কেটে ছিল আমার, তাহার আদর খেয়ে। ছোট্ট থেকে সে বড় করেছে মায়ের অভাব বুঝিনি, কত জ্বালাতন করেছি আমি,কখনো তার মুখখানি ভার দেখিনি। অনেক নাতিপুতি ছিল তাহার কেউ ত সখের নয়! নাতনী বলে বুঝতো শুধু মিতুল রানি মোর সবই। আস্তে আস্তে বড় হলাম যখন, ছেড়ে দিয়ে নানির কুল, কলেজে যখন ভর্তি হলাম, তখন কেঁদে নাহি পেতো কূল। কহিত ডাকিয়া প্রতিবেশীদের মোর কথাখানি শুন সকলে, আজ যে মিতুল ঘর ছাড়িল, ফিরবো না আর মোর কোলে, লিখিতে গিয়ে হাত খানি মোর থমকে গেল যেন, দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে গেল, মসজিদে আযান যে পড়ে হেন! হে খোদা তুমি ফরিয়াদ মোর কবুল করে নাও, সোনামুখ খানি মাটির কুলে শুয়ে জান্নাত তারে দাও। নানি মোর ছিল জীবনের প্রদীপ কি বলিব হায়! অনেক বড় ক্ষতি যে আমার হলো কাকে সুধাবো তায়। বুক চাপড়ে বলি খোদাকে হায়! এই যে ছিল মোর পরিণয়, কেড়ে নিলে মোর জীবন থেকে আমার আনন্দ আর শেষ আশ্রয়। নানি আমার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেল শয্যায় যখন, কত বিরক্ত হতাম ভাবতাম, সবটাই বুঝি তার অভিনয়। বুঝতে পারিনি এত দ্রুত নানি চলে যাবে আমায় ছেড়ে, জানলে বুকে গেঁথে রাখতাম তারে,শেষ নিঃশ্বাসের তরে। সেদিন ছিল সাল টা চব্বিশ ১৪ই নভেম্বর – কাঁদিয়ে যায় চিরদিনের মতো, অভিমান করে ছাড়লো; মোদের ভালোবাসার ঘর। সখের নানি মায়া কাটালো দুই দিনের দুনিয়ার! কি হবে বেঁচে এত সুখের আশায়, নানিই যে নাই আর। দিন দিন করে মাস যে গেল ছয় মাস হল পূর্ণ, নানি মোর নেই ঘর খানি যে আঁধারে ঢাকা শূন্য। বুকের ভেতর জমেছে বরফ কষ্টের নাই মুক্তি, এত কষ্ট দিও না খোদা, না দিয়ে সহ্যশক্তি। মানুষের মুখে কত শুনেছি তিন দিন হলে পাড়! খোদা নাকি ভুলিয়ে দেয়! কষ্টের বুঝা নাহি লাগে ভার। কয় হলো আমার বুকের পাঁজর যেন খসে যায়, ভাবি এখন ছয় মাস হয়, নানি নামক মানুষ টাই যে আর বেঁচে নাই। বুকের ভিতরে ধুমরে উঠে কেন এত বিষাদ – যন্ত্রণা, এমন করে কে গড়ে তুলেছিল আমায়! দিয়ে কি মন্ত্রণা! খোদা তুমি সবই পারো দিও অবুঝেরে বুঝ, একে একে সবাইকে যেতে হবে জানি কবরেতে রোজ। হে দয়াময়, তুমিতো বলেছ কেয়ামতে নাকি আপনজনদের আবার দেখা হয়! সেদিন যেন প্রথম দেখা, আমার আদরের নানির সাথেই হয়। কত কথা যে আজও বলা বাকি তাকে কত ভালোবাসি আমি, সেও কি কম ভালো বাসতো আমায়, নয়নে হারালেই বলতো কই আমার রানি! নানি যে আমার কত কথা জমিয়ে রেখেছে হে অন্তর্যামী, সেসব শুনার সময়টুকু দয়া করে কেয়ামতের দিন দিও তুমি। কেয়ামতের হিসাব পরে নিও খোদা! হাশরের মাঠের যত পরীক্ষা রেখো সরাইয়া, নানিকে মোর দেখতে দিও অন্তর আর দু-চোখ ভরিয়া। কত কথার ঝুড়ি সাজিয়ে রেখেছি একে একে বলবো তারে, কত অভিযোগ জমা হয়ে আছে কেন গেল সে আমায় ছেড়ে, সেতো জানত কত ভালোবাসি তারে কত কষ্ট পাবো! তবুও কেন একা করে গেল তোমরা একটা বার তো ভাবো। নানি মোর ছিল গুণের আঁধার কত কি শিখাতো নানান ছলে, হাদিস শুনেছি, নামাজ শিখেছি, আদব শিখেছি তার সুরে। কত গুণী ছিল মোর নানি, শেষ হবে না লিখিয়া! আল্লাহ তুমি ভালো রেখ তারে, তুমিই রেখো দেখিয়া। কত দামি জিনিস নিয়েছো কাড়িয়া তুমার সৃষ্টি বলে, আমরাও যাবো আজ বা কাল তোমারই ছায়ার তলে। ভালো থেকো নানি ভালো থেকো তুমি, তোমার মিতুল কয়, বেহেশতের সর্বোচ্চ স্থান যেন গো, নানি তুমি ফাতিমার হয়।

























