১১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ট্রায়ালের নামে ট্রাক কৌশলে নিয়ে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৫৭ Time View

 তন্ময় দেবনাথ রাজশাহী রাজশাহীতে ট্রায়ালের নামে একটি ট্রাক কৌশলে নিয়ে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে নগরীর অলকার মোড়ে অবস্থিত সংবাদ চব্বিশ ঘন্টার অফিসিয়াল ভবনে এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী জসিমউদদীন পাপ্পু। লিখিত বক্তব্য তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে টাটা ১১০৯ মডেলের একটি ট্রাক ট্রায়ালের কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যায় নগরীর টুলটুলি পাড়া হাড়ুপুর এলাকার মোঃ ইউসুফ আলির ছেলে মোঃ ইসা। দীর্ঘ সময়েও ট্রাকটি ফিরিয়ে না দেওয়ায় সন্দেহ হলে ট্রাক মালিক মোঃ জসিম ও তার বাবা মোঃ লুথফার রহমান মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ট্রাকের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে আমিন পাম্পের কাছে ট্রাকসহ চালককে আটক করেন তারা। এসময় ট্রাক থেকে ১ হাজার ৫০ কেজি গম উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন লুথফার রহমান। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইসা ট্রাক ট্রায়ালের নামে নিয়ে গিয়ে আর ফেরত দেননি। সাত দিন পর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ট্রাকটি খুঁজে পায় মালিকপক্ষ। জানা যায়,ঢাকার একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে ১৫ হাজার ৬১০ কেজি গমের চালান নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ট্রাকটি রওনা হয়,যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে গমের একটি অংশ (১ হাজার ৫০ কেজি) উদ্ধার করা হলেও বাকি গম সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় যুবদল নেতা ফরিদুল ইসলাম ও সাহেব আলির উপস্থিতিতে ট্রাকে থাকা গমের একটি অংশ ৩৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হয় এবং মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা সাহেব আলির মাধ্যমে ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিকে পরিশোধ করা হয়। এসময় সাহেব আলি ও ইসার বাবা ইউসুফ আলি বাড়ি বিক্রি করে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষরে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় এবং হুমকি পাওয়ার কারণে অবশেষে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ করা হলে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে থাকে। লুৎফর রহমান কোর্টের আশ্রয় নিলে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। চলতি বছরের ২৭ নভেম্বর স্থানীয় নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে ইশার পরিবার ও স্থানীয় নেতা সাহেব আলী আপস মীমাংসার নামে ট্রাক ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বললে আবারো প্রতারণা করেন। ইতোমধ্যে সাহেব এবং এশার নামে কোর্ট থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলেও কাশিয়াডাঙ্গা থানার পুলিশ তাদের গ্রেফতার না করে বরং মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানান তারা। এছাড়া প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ন্যায় বিচার দাবিসহ জীবনের নিরাপত্তার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রাজশাহীতে ট্রায়ালের নামে ট্রাক কৌশলে নিয়ে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৭:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

 তন্ময় দেবনাথ রাজশাহী রাজশাহীতে ট্রায়ালের নামে একটি ট্রাক কৌশলে নিয়ে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে নগরীর অলকার মোড়ে অবস্থিত সংবাদ চব্বিশ ঘন্টার অফিসিয়াল ভবনে এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী জসিমউদদীন পাপ্পু। লিখিত বক্তব্য তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে টাটা ১১০৯ মডেলের একটি ট্রাক ট্রায়ালের কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যায় নগরীর টুলটুলি পাড়া হাড়ুপুর এলাকার মোঃ ইউসুফ আলির ছেলে মোঃ ইসা। দীর্ঘ সময়েও ট্রাকটি ফিরিয়ে না দেওয়ায় সন্দেহ হলে ট্রাক মালিক মোঃ জসিম ও তার বাবা মোঃ লুথফার রহমান মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ট্রাকের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে আমিন পাম্পের কাছে ট্রাকসহ চালককে আটক করেন তারা। এসময় ট্রাক থেকে ১ হাজার ৫০ কেজি গম উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন লুথফার রহমান। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইসা ট্রাক ট্রায়ালের নামে নিয়ে গিয়ে আর ফেরত দেননি। সাত দিন পর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ট্রাকটি খুঁজে পায় মালিকপক্ষ। জানা যায়,ঢাকার একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে ১৫ হাজার ৬১০ কেজি গমের চালান নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ট্রাকটি রওনা হয়,যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে গমের একটি অংশ (১ হাজার ৫০ কেজি) উদ্ধার করা হলেও বাকি গম সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় যুবদল নেতা ফরিদুল ইসলাম ও সাহেব আলির উপস্থিতিতে ট্রাকে থাকা গমের একটি অংশ ৩৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হয় এবং মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা সাহেব আলির মাধ্যমে ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিকে পরিশোধ করা হয়। এসময় সাহেব আলি ও ইসার বাবা ইউসুফ আলি বাড়ি বিক্রি করে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষরে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় এবং হুমকি পাওয়ার কারণে অবশেষে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ করা হলে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে থাকে। লুৎফর রহমান কোর্টের আশ্রয় নিলে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। চলতি বছরের ২৭ নভেম্বর স্থানীয় নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে ইশার পরিবার ও স্থানীয় নেতা সাহেব আলী আপস মীমাংসার নামে ট্রাক ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বললে আবারো প্রতারণা করেন। ইতোমধ্যে সাহেব এবং এশার নামে কোর্ট থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলেও কাশিয়াডাঙ্গা থানার পুলিশ তাদের গ্রেফতার না করে বরং মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানান তারা। এছাড়া প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ন্যায় বিচার দাবিসহ জীবনের নিরাপত্তার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।