০১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভালুকায় দীপু দাস হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০০:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৫৫ Time View

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহের শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে দীপু দাস হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সারাদেশে মব সহিংসতা বন্ধের দাবিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আজ ২৫ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, ময়মনসিংহ জেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক কাজী ফরিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সদস্য, অধ্যাপক তারিকুল ফেরদৌস, আবু বক্কর সিদ্দীক রোমেল, কবি সরকার আজিজ, ইমতিয়াজ আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, আরিফুল হাসান, জেনাস ভৌমিক, শিক্ষক দেবব্রত সাহা, সাংস্কৃতিক কর্মী নাসিমা আক্তার প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা কমিটির সদস্য গৌতম কর। সমাবেশে বক্তার বলেন, “ভালুকা মাস্টারবাড়ীতে পাইয়োনিয়ার কারখানায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয় দীপু দাসকে। হত্যার পর লাশকে ঝুলিয়ে আগুনে পোড়ানো হয়। এই নৃশংস ঘটনায় সারাদেশের মানুষ স্তম্ভিত হয়েছে। দীপুর চাকুরীর পদন্নোতি অন্যায়ভাবে রুখতে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশ দিয়ে উত্তেজিত মবকে মোকাবিলা না করে উগ্রগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দীপুকে। ফলশ্রুতিতে দীপুকে নৃশংস মৃত্যুর শিকার হতে হয়। এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কোম্পানির মালিক, কর্মকতা সকলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।” বক্তারা আরো বলেন, “আমাদের দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ তারা ধর্মীয় উগ্রতা কখনোই সমর্থন করে না। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে একদল স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ক্রমাগত সাম্প্রদায়িক উগ্রতা তৈরীর চেষ্টা করছে। আওয়ামীলীগের সময়ে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরী হয়েছিলো তার কোন সংস্কার হয়নি। বিচারহীনতার কারনে একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটে চলেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার জরুরী ছিলো। গণতান্ত্রিক সংস্কারের ক্ষেত্রে অন্তর্বতীকালীন সরকারের উদ্যোগ অপর্যাপ্ত। মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা সরকার দিতে পারছে না। আসন্ন নির্বাচনকে বানচাল করতে সারাদেশে একটা অস্থিশীল পরিবেশ তৈরীর ষড়যন্ত্র চলছে।” গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি সারাদেশে একটি গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নির্মাণের জন্য আন্দোলন করছে। পরিশেষে বক্তারা দীপু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিচার ও মব সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মানের লড়াইয়ে সমাজের সকল অংশের মানুষকে শামিল হবার আহ্বান জানান।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ভালুকায় দীপু দাস হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

Update Time : ০৯:০০:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহের শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে দীপু দাস হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সারাদেশে মব সহিংসতা বন্ধের দাবিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আজ ২৫ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, ময়মনসিংহ জেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক কাজী ফরিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সদস্য, অধ্যাপক তারিকুল ফেরদৌস, আবু বক্কর সিদ্দীক রোমেল, কবি সরকার আজিজ, ইমতিয়াজ আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, আরিফুল হাসান, জেনাস ভৌমিক, শিক্ষক দেবব্রত সাহা, সাংস্কৃতিক কর্মী নাসিমা আক্তার প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা কমিটির সদস্য গৌতম কর। সমাবেশে বক্তার বলেন, “ভালুকা মাস্টারবাড়ীতে পাইয়োনিয়ার কারখানায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয় দীপু দাসকে। হত্যার পর লাশকে ঝুলিয়ে আগুনে পোড়ানো হয়। এই নৃশংস ঘটনায় সারাদেশের মানুষ স্তম্ভিত হয়েছে। দীপুর চাকুরীর পদন্নোতি অন্যায়ভাবে রুখতে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশ দিয়ে উত্তেজিত মবকে মোকাবিলা না করে উগ্রগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দীপুকে। ফলশ্রুতিতে দীপুকে নৃশংস মৃত্যুর শিকার হতে হয়। এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কোম্পানির মালিক, কর্মকতা সকলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।” বক্তারা আরো বলেন, “আমাদের দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ তারা ধর্মীয় উগ্রতা কখনোই সমর্থন করে না। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে একদল স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ক্রমাগত সাম্প্রদায়িক উগ্রতা তৈরীর চেষ্টা করছে। আওয়ামীলীগের সময়ে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরী হয়েছিলো তার কোন সংস্কার হয়নি। বিচারহীনতার কারনে একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটে চলেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার জরুরী ছিলো। গণতান্ত্রিক সংস্কারের ক্ষেত্রে অন্তর্বতীকালীন সরকারের উদ্যোগ অপর্যাপ্ত। মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা সরকার দিতে পারছে না। আসন্ন নির্বাচনকে বানচাল করতে সারাদেশে একটা অস্থিশীল পরিবেশ তৈরীর ষড়যন্ত্র চলছে।” গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি সারাদেশে একটি গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নির্মাণের জন্য আন্দোলন করছে। পরিশেষে বক্তারা দীপু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিচার ও মব সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মানের লড়াইয়ে সমাজের সকল অংশের মানুষকে শামিল হবার আহ্বান জানান।