ত্যাগের রাজনীতি থেকে ভোটের মাঠে—নিজামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খান মোহাম্মদ আলী রাজা
- Update Time : ০৩:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ৬৬ Time View

শার্শা নিউজ: বিশেষ প্রতিনিধি
যশোরের শার্শা উপজেলার রাজনীতির মাঠে পরিচিত ও আলোচিত এক নাম খান মোহাম্মদ আলী রাজা। দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, কারাভোগ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবার নতুন লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন খান মোহাম্মদ আলী রাজা। তিনি শার্শা উপজেলার ১১ নম্বর নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। পাশাপাশি শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষাজীবন ও পেশাগত পরিচয়
শিক্ষাজীবনে ইংরেজি বিষয়ে বি.এ (সম্মান) ও এম.এ ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি এল.এল.বি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি যশোর জজ কোর্টে একজন শিক্ষানবীশ আইনজীবী হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
ছাত্রদলের রাজনীতিতে পথচলার শুরু
২০০৭ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। সরকারি এম. এম. কলেজ শাখার রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় কর্মী হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেন এবং ধীরে ধীরে সামনের সারির নেতৃত্বে উঠে আসেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় ছিল ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল। ওই সময়ে এম. এম. কলেজে অনুমোদিত কমিটি না থাকায় আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও তিনি কলেজ শাখার বিভিন্ন কর্মসূচি, মিছিল ও আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান।
পরবর্তীতে ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত যশোর জেলা ছাত্রদলের নির্বাহী সদস্য এবং ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত যশোর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আন্দোলন-সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার দীর্ঘ পথ
খান মোহাম্মদ আলী রাজার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনের জরুরি অবস্থাবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও তৎকালীন ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময় মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগের মুখোমুখি হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক জীবনে নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের হওয়া মোট চারটি মামলায় তিনি আসামি হয়েছেন।
২০১৬ সালে আরাফাত রহমান কোকোর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন এবং ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবরের হরতাল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগের কথাও তিনি জানান।
হামলা ও আহত হওয়ার অভিজ্ঞতা
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় একাধিকবার হামলার শিকার ও আহত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন খান মোহাম্মদ আলী রাজা।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৬ ও ২০২১ সালে শার্শা এবং যশোরের এম. এম. কলেজ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘর্ষে তিনি আহত হন।
এছাড়া ২০১৩ ও ২০২৩ সালের ঢাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে আহত হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ডিবি পুলিশের মারধরে গুরুতর আহত হওয়ার দাবিও তাঁর রয়েছে।
সংগঠন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সংগঠনকে শক্তিশালী করতেও কাজ করেছেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা। শার্শা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বন্যার্তদের সহায়তায় ত্রাণ ফান্ড সংগ্রহে তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন প্রচারেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন বলে তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা জানান।
তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি, গত ১৭ বছরে শার্শার বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিত ও আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা সহায়তা, রক্তের ব্যবস্থা এবং আইনি সহযোগিতাসহ নানা মানবিক কর্মকাণ্ডে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী, সামনে বড় পরীক্ষা
দীর্ঘদিনের রাজপথের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবার ভোটের মাঠে কতটা কাজে আসে—সেটিই এখন দেখার বিষয়। ১১ নম্বর নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।
অন্যদিকে শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবেও দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন তিনি।
রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তার কারণে খান মোহাম্মদ আলী রাজা শার্শার রাজনীতিতে একটি পরিচিত মুখ। এখন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়—রাজপথের আন্দোলন থেকে জনপ্রতিনিধিত্বের লড়াই।




















