০৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
https://www.profitableratecpmnetwork.com/v1jxam82i?key=6e48215f3367986c0b5d80f8d170897b

চট্টগ্রাম বলাকা আবাসিকে ভূমির জবরদখল রোধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অবমাননার অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • / ৮৪ Time View

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম নগরীর বহুল আলোচিত বলাকা আবাসিক এলাকা, যা একসময় ‘বগারবিল’ নামে পরিচিত ছিল, সেখানে বিরোধীয় সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমিতে ভবন ও দোকান নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ঘাসিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ বকতেয়ার গং, পিতা-মৃত আশরাফ আলী, তাদের মৌরশী ও আরএস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ এনে চট্টগ্রামের সিনিয়র সিভিল জজ ৫ম আদালতে দেওয়ানি মামলা নং-০৭/২০২৬ দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী করা হয় মোঃ সালাউদ্দিন গং, পিতা-মৃত মোঃ মহিউদ্দিনকে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, তাদের পূর্বপুরুষের মালিকানাধীন ধানি জমি অনুমতি ছাড়াই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে ভূয়া দলিল সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত বিরোধীয় সম্পত্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের আদেশের অনুলিপিতে দেখা যায়, বিবাদীপক্ষকে বিরোধীয় সম্পত্তিতে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, মাটি ভরাট কিংবা সম্পত্তি হস্তান্তর থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে বিরোধীয় সম্পত্তির দখল ও অবস্থার বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়। তবে স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে পাওয়া তথ্যমতে, আদালতের নির্দেশনার পরও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিরোধীয় জমিতে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আশপাশের খালি জায়গাতেও দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। এমনকি আদালতের আদেশ সংবলিত সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানোর একদিনের মাথায় সেটি খুলে ফেলে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন বাদীপক্ষ। অভিযোগের বিষয়ে বিবাদীপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বাদীপক্ষ জানায়, বিষয়টি নিয়ে বাকলিয়া থানায় অবগত করা হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা আদালতের পক্ষ থেকে থানায় পাঠানো লিখিত নির্দেশনা দেখতে চান। তবে সেই নথির অনুলিপি তাৎক্ষণিকভাবে প্রদর্শন করতে পারেননি বাদীপক্ষ। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এলাকাটির বিভিন্ন জমি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের দখলে চলে যাচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা না হলে প্রকৃত মালিকরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হলে বিরোধীয় সম্পত্তি নিয়ে আরও জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

https://www.profitableratecpmnetwork.com/v1jxam82i?key=6e48215f3367986c0b5d80f8d170897b

চট্টগ্রাম বলাকা আবাসিকে ভূমির জবরদখল রোধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অবমাননার অভিযোগ

Update Time : ০৯:৫৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম নগরীর বহুল আলোচিত বলাকা আবাসিক এলাকা, যা একসময় ‘বগারবিল’ নামে পরিচিত ছিল, সেখানে বিরোধীয় সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমিতে ভবন ও দোকান নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ঘাসিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ বকতেয়ার গং, পিতা-মৃত আশরাফ আলী, তাদের মৌরশী ও আরএস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ এনে চট্টগ্রামের সিনিয়র সিভিল জজ ৫ম আদালতে দেওয়ানি মামলা নং-০৭/২০২৬ দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী করা হয় মোঃ সালাউদ্দিন গং, পিতা-মৃত মোঃ মহিউদ্দিনকে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, তাদের পূর্বপুরুষের মালিকানাধীন ধানি জমি অনুমতি ছাড়াই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে ভূয়া দলিল সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত বিরোধীয় সম্পত্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের আদেশের অনুলিপিতে দেখা যায়, বিবাদীপক্ষকে বিরোধীয় সম্পত্তিতে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, মাটি ভরাট কিংবা সম্পত্তি হস্তান্তর থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে বিরোধীয় সম্পত্তির দখল ও অবস্থার বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়। তবে স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে পাওয়া তথ্যমতে, আদালতের নির্দেশনার পরও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিরোধীয় জমিতে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আশপাশের খালি জায়গাতেও দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। এমনকি আদালতের আদেশ সংবলিত সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানোর একদিনের মাথায় সেটি খুলে ফেলে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন বাদীপক্ষ। অভিযোগের বিষয়ে বিবাদীপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বাদীপক্ষ জানায়, বিষয়টি নিয়ে বাকলিয়া থানায় অবগত করা হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা আদালতের পক্ষ থেকে থানায় পাঠানো লিখিত নির্দেশনা দেখতে চান। তবে সেই নথির অনুলিপি তাৎক্ষণিকভাবে প্রদর্শন করতে পারেননি বাদীপক্ষ। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এলাকাটির বিভিন্ন জমি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের দখলে চলে যাচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা না হলে প্রকৃত মালিকরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হলে বিরোধীয় সম্পত্তি নিয়ে আরও জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।