১২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
https://www.profitableratecpmnetwork.com/v1jxam82i?key=6e48215f3367986c0b5d80f8d170897b

চট্টগ্রামে ভোজ্যতেলের কালোবাজারি দমনে র‍্যাব-৭ এর সাঁড়াশি অভিযান অবৈধ লেভেলিং ও মজুদে জব্দ হাজার লিটার তেল, জরিমানা ও মামলা

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১২২ Time View

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম নগরীতে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগের মধ্যেই ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কালোবাজারি দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে র‍্যাব-৭। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ লেভেলিং, মজুদ ও অস্বাস্থ্যকর সংরক্ষণের অভিযোগে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে। র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে তেল মজুদ ও পুনরায় বোতলজাত করে আসছিল। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অভিযানে উঠে এসেছে ভোজ্যতেলের অবৈধ লেভেলিং, অনুমোদনবিহীন প্রক্রিয়াকরণ এবং গোপনে মজুদের চিত্র। বিপুল পরিমাণ তেল জব্দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অনিয়ম বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে বাধ্য করছে। অভিযানের প্রথম ধাপে অক্সিজেন মোড় এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই ভোজ্যতেলের অবৈধ লেভেলিংয়ের প্রমাণ মেলে। এ সময় ১,০৪২ লিটার তেল জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদন ছাড়া তেল পুনরায় বোতলজাত করলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং ভেজাল মিশ্রণের আশঙ্কা বাড়ায়। পরবর্তী ধাপে দুই নম্বর গেট নাসিরাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯,৬০০ লিটার ভোজ্যতেল গোপনে মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, এসব তেল বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই এলাকায় কর্ণফুলী কমপ্লেক্সে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১২,০০০ লিটার তেল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণের প্রমাণ মেলে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনবিহীন লেভেলিং ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তেল সংরক্ষণ করলে খাদ্যজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং তেলের গুণগত মান নষ্ট হয়। দীর্ঘদিন মজুদ করে রাখা তেল বাজারে ছাড়া হলে তা ভোক্তাদের জন্য আরও ক্ষতিকর হতে পারে। র‍্যাব-৭ জানিয়েছে, অবৈধ মজুদদারি, অনুমোদনবিহীন লেভেলিং এবং ভেজাল খাদ্যপণ্য বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। র‍্যাব-৭ (র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) দেশের একটি এলিট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যা ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সন্ত্রাস দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, ভেজালবিরোধী কার্যক্রম ও বিশেষ অভিযানে এ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে র‍্যাব-৭ নিয়মিতভাবে ভোক্তা অধিকার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে। চট্টগ্রামের সাধারণ ব্যবসায়ীরা এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পুরো বাজারের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সৎ ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

https://www.profitableratecpmnetwork.com/v1jxam82i?key=6e48215f3367986c0b5d80f8d170897b

চট্টগ্রামে ভোজ্যতেলের কালোবাজারি দমনে র‍্যাব-৭ এর সাঁড়াশি অভিযান অবৈধ লেভেলিং ও মজুদে জব্দ হাজার লিটার তেল, জরিমানা ও মামলা

Update Time : ০৬:২৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম নগরীতে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগের মধ্যেই ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কালোবাজারি দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে র‍্যাব-৭। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ লেভেলিং, মজুদ ও অস্বাস্থ্যকর সংরক্ষণের অভিযোগে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে। র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে তেল মজুদ ও পুনরায় বোতলজাত করে আসছিল। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অভিযানে উঠে এসেছে ভোজ্যতেলের অবৈধ লেভেলিং, অনুমোদনবিহীন প্রক্রিয়াকরণ এবং গোপনে মজুদের চিত্র। বিপুল পরিমাণ তেল জব্দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অনিয়ম বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে বাধ্য করছে। অভিযানের প্রথম ধাপে অক্সিজেন মোড় এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই ভোজ্যতেলের অবৈধ লেভেলিংয়ের প্রমাণ মেলে। এ সময় ১,০৪২ লিটার তেল জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদন ছাড়া তেল পুনরায় বোতলজাত করলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং ভেজাল মিশ্রণের আশঙ্কা বাড়ায়। পরবর্তী ধাপে দুই নম্বর গেট নাসিরাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯,৬০০ লিটার ভোজ্যতেল গোপনে মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, এসব তেল বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই এলাকায় কর্ণফুলী কমপ্লেক্সে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১২,০০০ লিটার তেল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণের প্রমাণ মেলে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনবিহীন লেভেলিং ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তেল সংরক্ষণ করলে খাদ্যজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং তেলের গুণগত মান নষ্ট হয়। দীর্ঘদিন মজুদ করে রাখা তেল বাজারে ছাড়া হলে তা ভোক্তাদের জন্য আরও ক্ষতিকর হতে পারে। র‍্যাব-৭ জানিয়েছে, অবৈধ মজুদদারি, অনুমোদনবিহীন লেভেলিং এবং ভেজাল খাদ্যপণ্য বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। র‍্যাব-৭ (র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) দেশের একটি এলিট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যা ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সন্ত্রাস দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, ভেজালবিরোধী কার্যক্রম ও বিশেষ অভিযানে এ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে র‍্যাব-৭ নিয়মিতভাবে ভোক্তা অধিকার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে। চট্টগ্রামের সাধারণ ব্যবসায়ীরা এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পুরো বাজারের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সৎ ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।