১১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্যাগ — খান সেলিম রহমানের হৃদয়ের আর্তি,

Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
  • / ৫৩৬ Time View

(একজন কলমযোদ্ধার আত্মকথন) শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার। আমি সেলিম— সম্পাদক, কলমযোদ্ধা, জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার প্রাণ, আমি সেই নিঃস্ব পাথেয়, যে নিভৃত আঁধারে ছড়িয়েছিল আলোর বাণী, শুধু দেশের জন্য, শুধু সাংবাদিকদের অধিকারের জন্য রেখেছিলাম জীবনের সমস্ত প্রাপ্তিকে তুচ্ছ। বন্ধু, ভাই, সহযোদ্ধা— যাদের জন্য নিজেকে করেছিলাম উৎসর্গ, আজ তারাই দাঁড়িয়েছে আমার বিপরীতে। আজ তারাই আমার সর্বনাশের নেপথ্য কারিগর! যাদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম হৃদয়, তারাই আজ ছুরি চালায় পিঠে। আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম— বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (বি.সি.পি.সি) হবে নিপীড়িত কণ্ঠের নিরাপদ আশ্রয়। একটি মঞ্চ— যেখানে অন্যায়ের মুখে ছুড়ে দেওয়া হবে সত্যের বজ্রনিনাদ। একটি পতাকা— যা ওড়ে নির্যাতিত সাংবাদিকের রক্ত-মিশ্রিত বাতাসে। তাদের জন্য দিয়েছি নিদ্রাহীন রাত, অসহ্য ক্ষুধা, শত অপমান, গালি, হুমকি— ভেবেছিলাম, হয়তো কোনো এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে পাবো সামান্য শ্রদ্ধা, একটু কৃতজ্ঞতা! কিন্তু আজ? যাদের বুক চিরে দিয়েছি ভালোবাসা, তারাই হাসছে আমার কান্নায়! আমার জীবন নিয়ে খেলা করছে তারা, যাদের গড়েছিলাম ভালোবাসার হাত ধরে, স্বপ্নের ভিতরে। পেছনে ফিরে দেখি— আছে শুধু নীরবতা আর বিশ্বাসঘাতকতার ছায়া। আমার আত্মত্যাগ এখন তুচ্ছ, ভালোবাসা—এক নিঃসঙ্গ অভিশাপ! আমার কলম আজও চলে— তবে শব্দগুলো রক্তে ভেজা। প্রতিটি বাক্যে শোনা যায় এক লাঞ্ছিত মনোরোদ, প্রতিটি ছন্দে বাজে এক সাংবাদিকের নিঃসীম আর্তনাদ। আমি সেলিম রহমান শুধুই প্রশ্ন করি— এই ছিল কি ভালোবাসার মূল্য? এই ছিল কি ত্যাগের প্রতিদান?

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ত্যাগ — খান সেলিম রহমানের হৃদয়ের আর্তি,

Update Time : ১১:১৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

(একজন কলমযোদ্ধার আত্মকথন) শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার। আমি সেলিম— সম্পাদক, কলমযোদ্ধা, জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার প্রাণ, আমি সেই নিঃস্ব পাথেয়, যে নিভৃত আঁধারে ছড়িয়েছিল আলোর বাণী, শুধু দেশের জন্য, শুধু সাংবাদিকদের অধিকারের জন্য রেখেছিলাম জীবনের সমস্ত প্রাপ্তিকে তুচ্ছ। বন্ধু, ভাই, সহযোদ্ধা— যাদের জন্য নিজেকে করেছিলাম উৎসর্গ, আজ তারাই দাঁড়িয়েছে আমার বিপরীতে। আজ তারাই আমার সর্বনাশের নেপথ্য কারিগর! যাদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম হৃদয়, তারাই আজ ছুরি চালায় পিঠে। আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম— বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (বি.সি.পি.সি) হবে নিপীড়িত কণ্ঠের নিরাপদ আশ্রয়। একটি মঞ্চ— যেখানে অন্যায়ের মুখে ছুড়ে দেওয়া হবে সত্যের বজ্রনিনাদ। একটি পতাকা— যা ওড়ে নির্যাতিত সাংবাদিকের রক্ত-মিশ্রিত বাতাসে। তাদের জন্য দিয়েছি নিদ্রাহীন রাত, অসহ্য ক্ষুধা, শত অপমান, গালি, হুমকি— ভেবেছিলাম, হয়তো কোনো এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে পাবো সামান্য শ্রদ্ধা, একটু কৃতজ্ঞতা! কিন্তু আজ? যাদের বুক চিরে দিয়েছি ভালোবাসা, তারাই হাসছে আমার কান্নায়! আমার জীবন নিয়ে খেলা করছে তারা, যাদের গড়েছিলাম ভালোবাসার হাত ধরে, স্বপ্নের ভিতরে। পেছনে ফিরে দেখি— আছে শুধু নীরবতা আর বিশ্বাসঘাতকতার ছায়া। আমার আত্মত্যাগ এখন তুচ্ছ, ভালোবাসা—এক নিঃসঙ্গ অভিশাপ! আমার কলম আজও চলে— তবে শব্দগুলো রক্তে ভেজা। প্রতিটি বাক্যে শোনা যায় এক লাঞ্ছিত মনোরোদ, প্রতিটি ছন্দে বাজে এক সাংবাদিকের নিঃসীম আর্তনাদ। আমি সেলিম রহমান শুধুই প্রশ্ন করি— এই ছিল কি ভালোবাসার মূল্য? এই ছিল কি ত্যাগের প্রতিদান?