নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আত্মঅহমিকা ও আমিত্ব পরিহার করে মহান আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণই পবিত্র হজ্বের মূল শিক্ষা—এমনটাই জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, ধৈর্য, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়েই একজন মুসলমান হজ্বের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। চট্টগ্রাম নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় আল-মারচুচ হজ্ব কাফেলার উদ্যোগে আয়োজিত ‘পবিত্র হজ্ব প্রশিক্ষণ কর্মসূচি–২০২৬’-এ এসব কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা নুরুল ইসলাম। হজ্ব গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোরশেদুল আলমের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা সরওয়ার আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বায়তুশ শরফ কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু ছালেহ মুহাম্মদ ছলিমুল্লাহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. জুনাইদ, গারাংগিয়া মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মহিউদ্দিন, বাকলিয়া বায়তুন নূর জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আখতার হোসাইন ফারুকী, হাবের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি হাজী শরিয়ত উল্লাহসহ বিভিন্ন আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, পবিত্র হজ্ব ধৈর্য ও ত্যাগের এক অনন্য অনুশীলন। দীর্ঘ সফর, জনসমাগম ও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেকে সংযত রাখা এবং অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত থাকাই হজ্বের অন্যতম শিক্ষা। মকবুল হজ্বের প্রতিদান জান্নাত—এ কথাও তারা স্মরণ করিয়ে দেন। তারা আরও বলেন, আল-মারচুচ হজ্ব কাফেলা গত ২৬ বছর ধরে হজ্বযাত্রীদের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। সেবার মান ও আন্তরিকতায় প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দেশের হজ্ব ব্যবস্থাপনায় আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পুরুষ ও নারী হজ্বযাত্রীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনায় হজ্বকালীন করণীয় বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল অত্যন্ত কার্যকর।অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।