বিশেষ প্রতিনিধিঃসীতাকুণ্ডে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে অপসাংবাদিকতা, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ এবং এলাকার স্থিতিশীলতা বিনষ্টের অভিযোগে 'আমার দেশ' পত্রিকার অনলাইন প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম জহিরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও তার সাংবাদিকতা নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টায় সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলা হয়। কদমরসুল এলাকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় রাজনীতিক নূরুল আলম লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, “২০ জুলাই 'আমার দেশ' অনলাইন ভার্সনে ‘আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে ব্যবসা দিচ্ছে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে আমাকে—নূরুল আলমকে—অভিযোগকারী হিসেবে দেখানো হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি বলেন, “গত ১০ বছরেও আমার ওই প্রতিবেদকের সঙ্গে কোনো দেখা বা কথাও হয়নি। অথচ আমার নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়েছে।” নূরুল আলম আরও বলেন, “জহির পূর্বেও জঙ্গল সলিমপুরে বিএনপি সন্ত্রাসীদের নামে মন্দির ভাঙচুর, মানববন্ধনে হামলার মতো ঘটনায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করেছে। এসবের মাধ্যমে সে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা ছড়াতে চেয়েছে।” সংবাদ সম্মেলনে জহিরের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়, তিনি আওয়ামী লীগ আমলে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাংসদ মামুনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সে সময়কার রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে সীতাকুণ্ডে চারতলা ভবন নির্মাণ করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে দুই দলে বিভাজনের চেষ্টা করছেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, “জহির শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়, বরং সাংবাদিকদের মধ্যেও দুভাগ সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিয়েছেন। এমন একজন হলুদ সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্বে থাকা গণমাধ্যমের জন্য লজ্জাজনক।” সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ‘আমার দেশ’ কর্তৃপক্ষের কাছে জহিরকে বরখাস্ত করে একজন প্রকৃত, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক নিয়োগের দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সালাউদ্দিন চৌধুরী, মোঃ নবী, মোঃ ইউছুফ, মোঃ মোরশেদ, মোঃ তারেক,মোঃ ইসলাম, জানে আলম জুনু, মোঃ হোছেন প্রমুখ। জহিরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।